
রাহাদ সুমন,বরিশাল প্রতিবেদক ::
নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বরিশাল মহানগরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আহসান শাহরুখের বাবা আবুল বাশারের মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্তি পায়নি কারাগারে বন্দি থাকা শাহরুখ।
ফলে বাবার লাশ নিয়ে জেলগেটে যেতে হয়েছে স্বজনদের। বাবা ছেলের শেষবারের মতো দেখা হয়েছে বরিশাল জেলগেটে। তাও মাত্র পাঁচ মিনিটের দেখা।
বুধবার সকাল সাড়ে ১১ টায় আহসান শাহরুখ এর পিতা আবুল বাশার মারা যান। এর আগে চলতি মাসেই পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন আহসান শাহরুখ।
শাহরুখের স্বজনরা ও বন্ধু আল আমিন জানান, এই নিয়ে ৩ বার আহসান শাহরুখকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শেষবার ওসি সাহেব সালাম দিতে বলেছে জানিয়ে শাহরুখকে নিয়ে গেছে। ছেলের চিন্তায় আবুল বাশারের এমন মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আমরা প্যারোলে মুক্তির জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গেলে রাজনৈতিক মামলা শোনার পর ১ ঘন্টা পর্যন্ত কেউ আমাদের কোন সহযোগীতা করেনি।
শাহরুখের ভাই অনেক কান্না করেছে আমার ভাইটারে শেষ বারের মত বাবার লাশটা একটু দেখতে দিন। তাতে কারোর মন গলেনি। পরে আমরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সাথে জোর করে দেখা করলে তিনি বলেন প্যারোলে মুক্তি দেওয়া সম্ভব না।
জেল গেটে দেখা করতে হবে। এরপর জেল গেটে লাশ নিয়ে যাই। সেখানেও ৩ জনের বেশি যেতে দেয়নি। একটা লাশের খাট ধরতে ৪ জন লাগে আর আমাদের জেল গেটে ৩ জন যেতে দিয়েছে। বাবার মৃতমুখ দেখে অঝোরে কাঁদেন শাহরুখ।
প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো: মিজানুর রহমান মিন্টু বলেন, প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করেছিলাম। তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক প্যারোলে মুক্তি দেওয়া সম্ভব না জানিয়ে জেল গেটে দেখা করতে বলেছেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনার বেশ কয়েকটি ভিডিও ভাইরাল হয়।
এ বিষয়ে জানতে বরিশালের জেলা প্রশাসক মো: খায়রুল আলম সুমন এর সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে বরিশালের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উপমা ফারিসা বলেন, আমার কাছে প্যারোলে মুক্তির একটি আবেদন আসে।
আবেদনটি জেলা প্রশাসক বরাবর ছিল। পরে আবেদনের বিষয়টি আমি জেলা প্রশাসক স্যারকে জানাই। স্যার অফিসে না থাকায় আবেদনটি হোয়াটসঅ্যাপে দেই। স্যার আবেদনের পেক্ষিতে জেল গেটে দেখা করার সিদ্ধান্ত দেন। এখানে পুরো বিষয়টি স্যারই সিদ্ধান্ত নেন। পরে আমি সিদ্ধান্তের বিষয়টি স্বজনদের জানিয়ে দেই।
Leave a Reply